Showing posts with label Sylhet. Show all posts
Showing posts with label Sylhet. Show all posts

Tuesday, April 15, 2014

বাড়িয়ে দিন আপনার সাহায্যের হাতঃ একজন দুস্থ, বৃদ্ধ এবং পঙ্গু রিকশাচালকের জন্য

ঘটনাটি ঘটলো ০৯/০৪/২০১৪ তারিখে, বাসা (ফাজিল চিশ্‌ত) থেকে আমি আর আমার এক বন্ধু বের হয়েছিলাম দরগাহ্‌ গেইটের (সিলেট এর একটি জায়গা) উদ্দেশ্যে। সেই সময়, কয়েকটি রিকশা চালককে ডাকার পর যখন কেউ আসলো না, তখন একজন বৃদ্ধ রিকশা চালক এসে আমাদের নিয়ে নিলো।



রিকশায় উঠবার পর থেকে মনে হচ্ছিল, বৃদ্ধ রিকশা চালক কোন কারণে রিকশাটা ঠিকমতো টানতে পারছেন না, রাস্তার একদিকে চলে যাচ্ছে। ভাল করে লক্ষ্য করে দেখলাম, ঊনার ডান পা নেই, বহু কষ্টে ঊনি শুধুমাত্র বাম পা দিয়ে রিকশা চালাচ্ছেন। এটা দেখার পর থেকেই প্রচন্ড কষ্টে মনটা একেবারে বিষিয়ে গেলো।

আমি নিজের মাঝে তাগিদ অনুভব করছি, ঊনার জন্য কিছু করবার জন্য। চিন্তা করছি, আমি আর আমার বন্ধু, যারা যারা ইচ্ছুক তাদেরকে নিয়ে ঐ রিকশা চালককে একটি 'ইলেক্ট্রিক রিকশা/ অটো রিকশা' ম্যানেজ/ কিনে দিবার জন্য।

আমি ব্যাক্তিগতভাবে সর্বোচ্চ হয়তো ২ হাজার টাকা (প্রয়োজনে এবারের নববর্ষের জন্য পাঞ্জাবী কিনবো না) দিতে পারবো, কিন্তু একটা নতুন ইলেক্ট্রিক রিকশা এর দাম সম্ভবত ৫৫- ৬০ হাজার টাকা, আর ভালমানের পুরানোগুলোর দাম ৩৫ হাজার টাকা।
আমি আমার সিনিয়র- জুনিয়র- সহপাঠি, স্যার- ম্যাডাম, দেশীয়- প্রবাসী বন্ধুদের আহবান জানাবো, দয়া করে তোমরা কেউ কিছু কন্ট্রিবিউট করো।

আমাদের একটু 'ভোগ' এর ত্যাগই হয়তোবা ঐ বৃদ্ধ পঙ্গু রিকশা চালকের জীবনটাকে অনেকটাই রক্ষা করতে পারবে এই পৃথিবীর কঠিন কষাঘাত থেকে।

আমরা প্রতিনিয়ত কতোভাবেই না টাকা খরচ করে থাকি, একটা রেস্টুরেন্টে বা ফাস্টফুডের দোকানে গেলেও হয়তো খরচ করে আসি ৩০০- ৪০০ টাকা। আবার প্রতিটা বিশেষ দিবস উপলক্ষ্যে জামা- কাপড় কিনতে গিয়ে হাজার হাজার টাকা খরচ করি। সামনে নতুন বাংলা বর্ষ, অনেকেই অনেকভাবে ইতোমধ্যে হাজার হাজার টাকা খরচ করে নিজেকে সেইদিন বিশেষভাবে ফুটিয়ে তোলার বন্দোবস্ত করে ফেলেছে, কেউবা এখনো করছে।

কিন্তু, আমরা যদি সবাই মিলে একটু করে দান করি, এই সুন্দর- ভাল কাজটার অংশ হই, তবে মাত্র হয়তো কিছু টাকা দিয়েই এমন একটা সুখ অনুভব করতে পারবো যা কোটি টাকা দিয়েও হয়তো কেনা যাবে না। একজন দুস্থ, পঙ্গু এবং বৃদ্ধ রিকশাভালকের মুখের যে সুন্দর হাসি পাওয়া যাবে, তাকে সাহায্য করবার মাধ্যমে, এটা সম্ভবত নতুন বর্ষের আনন্দের মাত্রাকে আরও বাড়িয়ে দিবে।

আমরা মাত্র ১৫০ জন মানুষ যদি গড়ে ৪০০ টাকা করে দেই, তাতেও হয়ে যায় ৬০ হাজার টাকা, আর এই ৬০ হাজার টাকাই এনে দিতে পারে মোহাম্মদ তোফিল নামের এই বৃদ্ধ, দরীদ্র, পঙ্গু মানুষটির মুখে এক চিলতে হাসি। তাই সবার কাছে আবেদন থাকবে, ঊনাকে একটি অটোরিকশা কিনে দেয়ার এই উদ্যোগে আপনিও এগিয়ে আসুন।

এ বিষয় নিয়ে সরাসরি আমার সাথে যোগাযোগ করো, অতি দ্রুত। আমার যোগাযোগ নাম্বারঃ 01717190567।
যারা, ব্যাংকে অর্থ পাঠাতে চাও, সরাসরি পাঠিয়ে দাও (অবশ্যই আমার সাথে আগে ফোনে যোগযোগ করে),

Name: Enamul Hafiz Latifee 
Account Number: 121.101.132041
Dutch-Bangla Bank Limited 
Sylhet Branch

অথবা বিকাশ করুন নিচের এই নাম্বারে,
01612787007
(বিকাশ নাম্বারে অর্থ প্রেরণ করার পর আমার 01717190567, এই নাম্বারে যে পাঠাচ্ছে, তার নাম্বারের শেষের 3 ডিজিট এস এম এস করে দিবেন।)

বি. দ্রঃ আগামী ১৫ দিনের মাঝেই যেনো পুরো টাকা পেয়ে যেতে পারি এবং ঊনাকে অটো রিকশা কিনে দিতে পারি, সেজন্য সবাইকে বলবো এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্তে এসে আমার সাথে যোগাযোগ করবার জন্য। ধন্যবাদ সবাইকে।

Monday, November 25, 2013

শাবিপ্রবি, যবিপ্রবি, গুচ্ছ পরীক্ষা এবং অহেতুক আন্দোলন

নিজেদের রাজনৈতিক লালসাকে জিইয়ে রাখতে এবং হঠাৎ করে নেতা হওয়ার ইচ্ছায়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) পরিবারকে কয়েকটি রাজনৈতিক দল সিলেটি- নন সিলেটি, এই দুইভাগে ভাগ করে ফেলতে চাইছে এবং ইতোমধ্যে ভাগ করে ফেলেছেও। আবার অন্যদিকে, ঠিক যারা বিসিএস এর কোটার বিরুদ্ধে আন্দোলনে মাঠে নেমেছিল, তাদেরকেই দেখা যাচ্ছে শাবিপ্রবি- তে সিলেটিদের শতকরা ৫০ ভাগ কোটা বরাদ্ধ দেয়ার পক্ষে মাঠে নামতে।

অথচ যারা এ দাবি তুলছে, প্রথমত, তারা সম্ভবত বিশ্ববিদ্যালয়ের সংজ্ঞাই জানেন না। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সব মতের, সব ধরনের মানুষের যদি নিজেদের মাঝে কথা বলা, আইডিয়া ভাগ করে নেয়ার সুযোগ না থেকে থাকে, তাহলে সেটা কখনো প্রকৃত অর্থে বিশ্ববিদ্যালয়ই হতে পারে না।

দ্বিতীয়ত, ধরে নিলাম, যারা গুচ্ছ পদ্ধতির বিরুদ্ধে, তাদের দাবি রাখা হলো। এর সুদূরপ্রসারী ফল কি আদৌ ভাল কিছু হবে? উত্তর হলো, মোটেও না। কারণ, যেখানে কোন প্রতিযোগিতা নেই, অথবা প্রতিযোগিতা কমিয়ে দেয়া হয়, সেখানে যারা ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিবে তারাও কি এস এস সি, এইচ এস সি এমন কি ভর্তি পরীক্ষায় টিকে থাকতে এখনকার মতো অনেক অনে বেশি বেশি পড়বে, না কি গা ছেড়ে দিবে? আর যদি, গা ছেড়ে দেয়, তাহলে সিলেটে এখন যেমন শিক্ষার একটা খুবই স্বাস্থ্যকর অবস্থা বিরাজ করছে, তা কি আর ভবিষ্যতে টিকে থাকবে? মোটেই টিকে থাকবে না। এটা স্পষ্টতই, পরোক্ষভাবে সিলেটিদেরকে পড়ালেখা চর্চা তথা মেধা বিকাশে বাঁধা দিবে।
এবং আমার ধারণা কোন সিলেটিই চাইবে না, শিক্ষাক্ষেত্রে এই উন্নতি থেকে নিজেদেরকে সরিয়ে নিতে। মনে রাখতে হবে, ব্রিটিশ- পাকিস্তান আমলে সিলেটিদের আলাদা একটা অবস্থান ছিল শিক্ষা- দীক্ষায়, মাঝে তাতে ভাটা পড়ে গিয়েছিল, এখন তা আবার শুরু হয়েছে, এটাকে কোনভাবেই নষ্ট হতে দেয়া যাবে না।

তৃতীয়ত, আজ শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক জাফর ইকবালের বিরুদ্ধে অনেক কথা বলা হলো এবং দাপ্তরিক একটা বৈঠকে তাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালি- গালাজ করা হলো। তো তার দোষ কি ছিল? তার দোষ কি এটাই দোষ ছিল যে, তিনি একীভূত একটা ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি চেয়ে আসছিলেন?
তিনি তো আর এ বলেন নি, যে সারা জীবন শাবিপ্রবি সুযোগ দিয়ে যাবে, আর অন্যরা দিবে না। এটা একটা প্রক্রিয়া। কোন ভাল কাজ একদিনে হয় না, ধীরে ধীরে সময় নিয়ে হয়। আর এসবক্ষেত্রে উদ্যোগটা বড় প্রতিষ্ঠান থেকেই আসতে হয়, এবং অবশ্যই শাবিপ্রবি আর যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) এর মাঝে শাবিপ্রবিই বড় ভাই, স্বভাবতই তার ত্যাগের পরিমানটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেশি হবে।
অন্যদিকে, এ নিয়ে আজ উপাচার্জের বাসভবনের সামনে এবং ভিতরে ককটেল নিক্ষেপ করে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এর মানে কি দাঁড়ালো?
যাবতীয় রাজনৈতিক সংঘাত স্বত্তেও, শাবিপ্রবি প্রায় ভালই চলছিল, অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো মাসের মাস বন্ধ না থেকে। এখন ইচ্ছে করেই কোন এক মহল এমন কিছু করতে চাচ্ছে, যাতে করে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি মুখ থুবড়ে পড়ে।

চতুর্থত, আন্দোলনের বিষয় যদি এমন হতো, 'গুচ্ছ পরীক্ষা পদ্ধতি সব বিশ্ববিদ্যালয়কে চালু করতেই হবে।' তাহলে আমি মনে প্রাণে এই আন্দোলনের সাথে একাত্নতা প্রকাশ করতাম। শুধুমাত্র তখনই এই আন্দলনটা একটি Constructive ভিত্তি পেতো। তবে এটা না করে, এই পদ্ধতি ভাঙতে চাওয়ার মানে হচ্ছে Destructive একটা পথে হাটা শুরু করা। আর Destructive কোনকিছু আজ পর্যন্ত পৃথিবীর কোন জায়গায় কোন ভাল কিছু করতে পারেনি, শুধুমাত্র মানব সভ্যতাকে পিছিয়ে দেয়া ছাড়া।

সিলেটি- নন সিলেটি এর মাঝে অহেতুক এই লাগালাগি থেকে গা বাঁচিয়ে চলতে অনুরোধ করবো সবাইকেই। এখন দেখা যাচ্ছে, নন সিলেটিরা হেয় করে কথা বলছে সিলেটিদের, পালটা আক্রমণ আসা শুরু করেছে সিলেটিদের মাঝ থেকেও। পৃথবীর উন্নত দেশগুলো যে সিস্টেম ফলো করছে, তার অনেকগুলো এদেশের অনেক সেক্টরের ব্যাবস্থাপনাকে আসলেই অনেক সহজ- সরল করে দিতে পারে। আর এ কথা ভুলে গেলে চলবে না জাগতিক চিন্তাধারায়, 'সবার উপরে মানুষ সত্য, তার উপরে কিছু নাই'।

তাই, যারাই বিভেদ ধরিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে তাদের থেকে দূরে থাকুন। আরো ভাল করে খেয়াল করলে দেখবেন, সিলেটিদের উপর অথবা সিলেটি ভাষা, কৃষ্টির উপর যখন সত্যিকার কোন আঘাত আসে তখন কিন্তু এইসব 'হঠাৎ নেতাদের' দেখা মিলে না। এরা সুযোগসন্ধানী ছাড়া কিছুই নয়, কেউ ভোটের কাঙ্গাল আর কেউ 'নেতা' হওয়ার কাঙ্গাল। নিজেদের বাঁচিয়ে চলুন এদের দাবা খেলার গুটি হওয়া থেকে।

লেখাটির শেষ দিকে এসে বলতে চাই যে, পৃথিবীর কিছু জিনিস আছে সার্বজনীন। যেমন, মেধা, শিল্প, সৃষ্টি এরকম অনেক কিছুই। এগুলোকে কোন বাঁধা দিয়ে আটকে রাখা যায় না। আর তাই বাংলাদেশের একজন সাধারণ গ্রামের কৃষকের সন্তান একসময় যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যায় স্কলারশিপসহ। আর তাই, ইউরোপে বিভিন্ন দেশের সাংসদ সদস্য হয় এদেশের কোন মানুষের রক্তের বাহক।

মেধার কোন সীমা- পরিসীমা নেই, বরং মেধাকে আটকে দেয়া মানে নিজেকে অথবা নিজের সমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করা। আমি যদি GRE, IELTS দিয়ে বাইরের কোন দেশে ফান্ডিংসহ পড়তে যাওয়ার স্বপ্ন দেখি, তাহলে সেই একই আমি যবিপ্রবি আর শাবিপ্রবি এর সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার বিরুদ্ধে যেতে পারি না। যদি এর বিরুদ্ধে গিয়ে থাকি, তাহলে হয় আমি মানসিক বিকারগ্রস্ত, আর নাহয় আমি ইচ্ছা করে অবৈধভাবে সুযোগ নেয়ার জন্য দ্বৈত আদর্শ অনুসরণ করছি।

মনে রাখা প্রয়োজন, মেধাকে আটকে দেয়ার মেকানিজম্‌ তৈরি করা মানেই একটা পাপ সংগঠিত করা। আর আমার দৃঢ় বিশ্বাস, প্রতিবার যেমন সারা বাংলাদেশের অসংখ্য মেধাবী ছাত্র- ছাত্রীদের পিছনে ফেলে যেভাবে সিলেটিরা শাবিপ্রবি- তে নিজেদের জায়গা করে নিচ্ছে, ঠিক একইভাবে এবারও সেই সাফল্যের ধারা তারা বজায় রাখবে। বরং আমার ধারণা, তাদের সুযোগ পাওয়ার হার আরো বেশি বেড়ে যাবে। কারণ, সত্যিকারের বীর কখনো তার প্রতিপক্ষকে ভয় পেয়ে ময়দান ছেড়ে দেয় না, বা হঠাৎ করে বলে না যে 'খেলুম্‌ না', বরং সে লড়ে যায় অদম্য শক্তি দিয়ে, এবং নিশ্চিত করে ছাড়ে- তার বিজয়।

এটাও ভুলে গেলেও চলবে না, কোটা পদ্ধতি তাদের জন্যই প্রণয়ন করা হয় যারা পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠী। এবং আমরা অর্থ্যাৎ সিলেটিরা নিজেদেরকে অর্থ থেকে মেধা, কোন দিক থেকেই নিজেদেরকে পশ্চাৎপদ মনে করে না, অন্যদিকে মূলত এই সিলেটিরাই বাংলাদেশের ইমেজ বিশ্বের মাটিতে উঁচু করে ধরে রেখেছে, যার প্রকৃষ্ট ঊদাহরণ হলো নামকরা উদ্যোক্তা সাবিরুল, সাংসদ রোশন আরা সহ অনেকে। বরং সিলেটিদের জন্য শাবিপ্রবি- তে কোটা প্রণয়ন করা নিজেদের জন্যই একধরনের অপমান।

পরিশেষে বলতে চাই, বিজয় তাদেরই হবে যারা তার অধিকার রাখে! স্রষ্টাকে মনে রেখে ঝাঁপিয়ে পড়ো, আর কোনকিছুরই দরকার নেই! মেধাবীদের জয় হোক।

লেখকঃ ইনামুল হাফিজ লতিফী, শিক্ষানবিশ, অর্থনীতি বিভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট।


লেখাটি ইতোমধ্যে নীচে দেয়া লিংকগুলোতে প্রকাশিত হয়েছে, আরও কয়েকটিতে প্রকাশ হবার প্রক্রিয়াধীন,

১) http://sylheteralap.com/news/category/opinion/detail/69645

২) http://www.gbnews24.com/article.php?details=2290

৩) http://bdn24x7.com/?p=155713

৪) http://surmatimes.com/2013/11/26/39716.aspx/

Saturday, October 19, 2013

পরিচালক মাসুদ সেজানের কাছে খোলা চিঠি

ইদানীং টেলিভিশনের চেহারা দেখা হয় না, প্রায় ২- ৩ মাস ধরে খবরটাও দেখা হয় না! তাই মাঝেমাঝে অনেক গুরুত্বপূর্ণ জিনিসও অনেক দেরিতে জানতে পারি। যেমন আজ, একজনে বন্ধুর মাধ্যমে জানতে পারলাম, মাসুদ সেজান নামের একজনের পরিচালনা এবং রচনায় সিলেটিদের উপর ভিত্তি করে, 'মানি ইজ নো প্রবলেম' শীর্ষক একটি নাটক R TV তে দেখানো হয়েছে যাতে অভিনয় করেছেন মোশাররফ করিম।

প্রাসঙ্গিকভাবে এটা শুনে আমার ভাল লাগার কথা। আমি যেহেতু নাটকটি ব্রডকাস্ট হওয়ার সময় দেখতে পারিনি, সাহায্য নিলাম ইউটিউবের


প্রায় ৪১ মিনিটের নাটকটি দেখে আমি বড়ই আশাহত হয়েছি। সত্যি কথা বলতে গেলে এতোটা নিম্নমানের নাটক আমার জীবনে কয়টা দেখেছি, তা আমি মনে করতে পারছি না।

প্রথমত, নাটকটিতে সিলেটি ভাষায় যে ডায়লগ তৈরি করা হয়েছে, তার কোন আগা- মাথা নেই। ডায়লগগুলো যে লিখেছেন, তার মনে হয় সিলেটি ভাষা সম্পর্কে ভাষা- ভাষা জ্ঞাণ ছাড়া আর কিছুই নেই, আর তাই প্রতিটা ডায়লগে অজস্র ভুল। স্বাভাবিকভাবেই আপনি যখন ইংরেজি ভাষায় কথা বলতে চাইবেন, তখন আপনার ইচ্ছা থাকবে যতোটুকু পারা যায় কম ভুল করে কথা বলা। আপনি যখন শুদ্ধ বাংলায় কথা বলবেন, আপনার ইচ্ছাটা একই থাকবে। এবং 'সিলেটি ভাষা' পৃথিবীর ৩ হাজার স্বয়ংসম্পূর্ণ ভাষার মাঝে একটি স্বতন্ত্র ভাষা, যদি একথা আপনার বিশ্বাস না হয় তাহলে উইকিপিডিয়াতে সার্চ দিয়ে দেখতে পারেন, ঘুরে আসতে পারেন নীচের লিংকগুলো থেকেও।

১) সিলেটি ভাষার আদ্যোপান্ত
২) বাংলা না নাগরী?


এর মানে হচ্ছে, সিলেটি ভাষা নিয়ে আপনি হেলা- ফেলা করতে পারেন না। আপনি যখনই সিলেটি ভাষা নিয়ে কিছু করতে যাবেন অবশ্যই সেই ভাষার গাঠনিক দিকগুলো ভাল করে খেয়াল করেই করতে হবে, আর যদি তা না করেন তবে সেটা সিলেটি ভাষাকে অপমান করা হয়। ভাল করে খেয়াল করে দেখুন, আপনি সিলেটি ভাষাকে অপমান করেছেন।




দ্বিতীয়ত, নাটকটিতে মোশাররফ করিম ছিলেন সিলেটি, অর্থ্যাৎ তিনি সেখানে সিলেটিদের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তার অভিনয় শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছিল উগ্র ধরনের। এই অভিনয় দেখে যে কেউ-ই মনে করতে পারে যে, সিলেটিরা মনে হয় সবসময় উগ্রভাবে কথা বলে থাকে। হুমম, আমাদের অর্থ- বিভব বেশি থাকতে পারে, কিন্তু সেটা নিয়ে যদি উগ্রতাই থাকতো তাহলে এই শহরে আপনাদের মতো নাট্য পরিচালকদের আসাকে আমরা স্বাগতম জানাতাম না, ঢাকা বা অন্য যে কোন জায়গার মানুষদের আতিথেয়তায় আমরা আর যে কোন জায়গার মানুষের চেয়ে সরেস। আপনাদের মতো মানুষদের স্বভাব কম দেখা হয়নি আমাদের, 'টাইম ইজ্‌ মানি'- এটা আপনাদের ব্যাবহারে প্রকাশ পায়, আমাদের না। সিলেটিরা একইসাথে তাদের জন্মভূমিকে যেমন খুব ভালোবাসে, ঠিক একইভাবে যে কোন অঞ্চলের মানুষের তুলনায় অনেক বেশি সদালাপী এবং খুব আন্তরিভাবে কথা বলে। এর মানে, আপনি সিলেটি মানুষদের ভুলভাবে উপস্থাপন করেছেন আপনার নাটকের কেন্দ্রিয় চরিত্র দিয়ে। ভুলে যাবেন না, আপনি এবারে সিলেটি মানুষদের অপমান করলেন।

তৃতীয়ত, আপনি একটি সিলেটি চরিত্রে আর মানুষ পেলেন না নেয়ার, নিলেন মোশাররফ করিমকে। কেন? ঊনার থেকে সুন্দর কোন মানুষ কি ছিল না? না কি, আপনার মনে একটা ইচ্ছা ছিল, বাংলাদেশের মানুষ দেখুক, সিলেটিরা দেখতে সুশ্রী নয়! জানিনা, আপনার মনে কি ছিল, কিন্তু আপনার হয়তো এটা জানা থাকার কথা, গড়পরতায় সিলেটি মানুষরা বাংলাদেশের যে কোন অঞ্চলের মানুষের তুলনায় সুন্দর হয়ে থাকে।

চতুর্থত, আপনি আপনার নাটকে অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে দেখাবার চেষ্টা করেছেন সিলেটিরা ক্ষেত! আপনি হয়তো জানেন না, আজ পৃথিবীতে সিলেট তথা বাংলাদেশের নাম উঁচু করা এবং পৃথিবীব্যাপী খ্যাতির অন্যতম দূত হিসেবে কাজ করছে, ইউরোপসহ অন্যান্য জায়গায় বসবাসরত সিলেটিরাই। আপনি তাহলে কাদের ক্ষেত প্রমাণের চেষ্টা করছেন? যারা উন্নত কয়েকটি দেশের সাংসদ সদস্য, যারা পৃথিবীব্যাপী অনুপ্রেরণার মডেল, আপনি তাদের আসছেন স্মার্টনেস শিখাতে? নিজের দিকে একবার তাকান, দেখুন তো ভাল করে যে আপনি কতটুকু কি।

পরিশেষে একটাই দাবি, আপনি অতিস্বত্তর ক্ষমা চান, নাহলে আপনাকে সিলেটবাসী অবাঞ্চিত ঘোষণা করতে দ্বিধা করবে না।
একইসাথে Rtv কেও ক্ষমা চাইতে হবে এধরনের একটি মানহীন নাটক প্রচারের মাধ্যমে সিলেটি ভাষা, সিলেটি মানুষ তথা সিলেটকে অপমান করার জন্য, নতুবা আপনাদেরকেও সিলেটবাসী ছাড় দিবে না।

Tuesday, July 16, 2013

আদালতের রায়ের বিপক্ষে গিয়ে দেশব্যাপী জামায়াত- শিবিরের বর্বরতম ধ্বংসলীলা শুরু!

১)

জামায়াতি তাণ্ডব, বাসচাপায় প্রাণ গেল শিশুর


গাজীপুরে হরতালে জামায়াত-শিবির কর্মীদের তাণ্ডবের মধ্যে একটি বাসের নিচে চাপা পড়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আগুনে দগ্ধ হয়েছেন এক বাসচালক।

নিহত নাদিয়া  সুলতানা (৯) নেত্রকোনার পূর্বধোলার সাইদুল ইসলামের মেয়ে।
জয়দেবপুর থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় জামায়াত-শিবির কর্মীরা কয়েকটি গাড়িতে ভাংচুর চালায়। এক পর্যায়ে ভালুকাগামী একটি বাসে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেয় তারা।
ওই বাসের যাত্রীরা হুড়োহুড়ি করে  নেমে রাস্তার পাশে দাঁড়ান। এ সময় পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আরেকটি বাস দ্রুত পেছন দিকে সরার চেষ্টা করলে রাস্তায় দাঁড়ানো নাদিয়া চাপা পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এদিকে আগুনে ওই বাসের চালক জাকির হোসেন দগ্ধ হয়েছেন। তাকে গাজীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আগুনে তার ডান হাত ও বুকের ডান অংশ পুড়ে গেছে বলে হাসপাতালের চিকিৎসক আবদুস সালাম জানিয়েছেন। হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে অন্তত ১০ যাত্রী আহত হয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
নাদিয়ার মৃতদেহ গাজীপুর সদর হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।
যুদ্ধাপরাধে সাবেক আমির গোলাম আযমের কারাদণ্ডের প্রতিবাদে সারা-দেশে হরতাল করছে জামায়াতে ইসলামী।




২)

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জামায়াতের ককটেলে শিশুসহ আহত ৬



চাঁপাইনবাবগঞ্জে জামায়াতের ককটেলে শিশুসহ আহত ৬
চাঁপাইনবাবগঞ্জ: চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের পুরাতন বাজারে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা। এতে তিনটি শিশুসহ ছয়জন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

আহত সজিব (৮), আমান (৯), ইসমিকা (৫), ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম, আসাদুল হকসহ ছয়জনকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনার পর ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম বজলুর রশিদ এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।



৩)
জামায়াতের হরতালে গাড়িতে আগুন

গোলাম আযমের রায় প্রত্যাখ্যান করে তার মুক্তির দাবিতে জামাতের হরতালের শুরুতেই ঢাকার ডেমরা ও নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় যানবাহন পুড়িয়েছে দলটির কর্মীরা।

ঢাকা মহানগর পুলিশের যাত্রাবাড়ী এলাকার সহকারী কমিশনার মিনহাজুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৭টার দিকে ডেমরার রানিমহল সিনেমা হলের সামনে একটি মাইক্রোবাসে আগুন দেয় হরতালকারীরা। এরপর  তারা দ্রুত ওই এলাকা ত্যাগ করে।
এছাড়া সকালে যাত্রাবাড়ীর বিভিন্ন এলাকার অলিগলিতে জামায়াত কর্মীরা মিছিলের চেষ্টা করে বলে সহকারী কমিশনার জানান।
এদিকে সকাল সোয়া ৮টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় একটি বাসে আগুন দেয়া হয়।
ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দায়িত্বরত কর্মকর্তা ব্রজেন কুমার সরকার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, খবর পেয়ে তাদের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এছাড়া সকালে রাজধানীর পল্লবী ও রামপুরা এলাকায়ও হরতালের সমর্থনে জামায়াত-শিবির কর্মীদের মিছিলের খবর পাওয়া গেছে।
যুদ্ধাপরাধের পাঁচটি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় জামায়াতের মুক্তিযুদ্ধকালীন আমির গোলাম আযমকে মোট ৯০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সোমবার ওই রায় ঘোষণার পর সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা এই হরতালের ঘোষণা দেয় জামায়াত।
গোলাম আযমের রায়ের দিনে হরতালে একটি বাসে আগুন দেয় জামায়াত কর্মীরা
গোলাম আযমের রায়ের দিনে হরতালে একটি বাসে আগুন দেয় জামায়াত কর্মীরা
রায় ঘোষণার দিনও তারা সারা দেশে হরতাল করে। দলটির নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক বোমাবাজি, হামলা-ভাংচুর-অগ্নিসংযোগ করে এবং কুষ্টিয়া, সাতক্ষীরা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে সহিংসতায় পাঁচজন নিহত হন।
এর আগেও ট্রাইব্যুনালের রায়ের দিন ও পরে হরতাল করে সহিংসতা চালায় একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী দল জামায়াত। 
হরতালের কারণে সোমবার সকাল থেকেই রাজধানীর প্রতিটি সড়কে অবস্থান নিয়ে আছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য। বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে।
মঙ্গলবারের হরতালে রাজধানীতে আগের দিনের চেয়ে বেশি যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। তবে গাবতলী, মহাখালী ও সায়েদাবাদ থেকে দূর পাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
রেল ও লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ট্রাইব্যুনালের রায় প্রত্যাখ্যান করে গোলাম আযমের ফাঁসির দাবিতে শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চও মঙ্গলবার সারা দেশে হরতাল করছে।


৪)

পিকেটারের হামলায় দুর্ঘটনা, নিহত ১


দিনাজপুরের রানীরবন্দরে জামায়াত-শিবিরের পিকেটারদের হামলায় ট্যাংকলড়ি দুর্ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন।

এ সময় ওই ট্যাংকলড়ির চালক গুরুতর আহত হন।
মঙ্গলবার সকালে দিনাজপুর-রংপুর মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
নিহত আব্দুল কুদ্দুসের (৬০) বাড়ি চিরিরবন্দর উপজেলার ফতেজংপুর গ্রামে। পেশায় তিনি ট্রাক চালক।
চিরিরবন্দর থানার পরিদর্শক হারেসুল ইসলাম জানান, ভোরে জামায়াত-শিবিরের পিকেটাররা একটি ট্যাংকলড়ি লক্ষ্য করে ইট ছুঁড়ে মারলে চালক আহত হন এবং গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন।
এ সময লড়িটি একটি রিকশাভ্যানকে ধাক্কা দিয়ে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে ওই ভ্যানের আরোহী আব্দুল কুদ্দুস গুরুতর আহত হন।
দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর তার মৃত্যু হয়।
আহত লড়িচালক হাসান আলীকে (৩৬) দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।


৫)

গোবিন্দগঞ্জে বোমা উদ্ধার


গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় পরিত্যক্ত অবস্থায় সাতটি তাজা হাতবোমা উদ্ধার করেছে র‌্যাব।

মঙ্গলবার কালিতলা বাজারের পাশে বোমাগুলো পাওয়া যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি দেলোয়ার হোসেন জানান, গোপন সংবাদ পেয়ে র‌্যাব-৫ জয়পুরহাটের সদস্যরা বেলা সাড়ে ১১টার দিকে একটি চটের ব্যাগে রাখা এই হাতবোমাগুলো উদ্ধার করে।
তিনি জানান, ভোরে ওই এলাকায় জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্র শিবিরের নেতাকর্মীরা সমবেত হয়েছিল।
হরতালে নাশকতা করতে বোমাগুলো এখানে আনা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, বলেন তিনি।



৬)

গাজীপুরে বাসে আগুন


গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে একটি বাসে অগ্নিসংযোগ ও বেশকিছু গাড়ির ভাংচুর করেছে জামায়াতের হরতাল সমর্থকরা।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল ১০টার দিকে ঢাকা থেকে কোনাবাড়ীগামী যাত্রীবাহী স্কাইলাইন পরিবহনের বাসে আগুন দেয়া হয়।
বাসে যাত্রী ওঠানোর সময় ১০-১৫ জন হরতাল সমর্থক বাসটির পিছনের সিটে অগ্নিসংযোগ করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এছাড়া সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর ভোগড়া, চান্দনা-চৌরাস্তা এলাকার মহাসড়কে পিকেটাররা ইট ছুঁড়ে কয়েকটি গাড়ির কাচ ভাংচুর করে। এছাড়া লক্ষ্মীপুরা এলাকায় শিববাড়ি-চান্দনা-চৌরাস্তা সড়কের ওপর কাঠ ও টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ ও কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করে পিকেটাররা।
গাজীপুরে দূরপাল্লার কোনো যান চলাচল না করলেও সড়ক-মহাসড়কগুলোতে অভ্যন্তরীণ রুটের বাস, পিকআপ, অটোরিকশা, লেগুনা, টেম্পু ও রিকশা চলাচল রয়েছে। ট্রেন চলাচলও স্বাভাবিক। অফিস-আদালত, কল-কারখানা, বিপনিবিতান, দোকানপাট খোলা রয়েছে।
জয়দেবপুর থানার ওসি মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, কোনাবাড়ি, ভোগড়া বাইপাস সড়ক, চান্দনা এলাকায় জামায়াত-শিবির ঝটিকা মিছিল বের করে বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করেছে।



৭)

সিলেটে গাড়ি ভাংচুর শিবিরের


হরতালের সকালে সিলেট নগরীতে গাড়ি ভাংচুর করেছে ইসলামী ছাত্র শিবিরকর্মীরা।

মঙ্গলবার সকালে তারা ঝটিকা মিছিল এবং টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধও করে।
এছাড়া ওসমানী মেডিকেল হাসপাতাল এলাকা থেকে পাঠানটুলা পর্যন্ত পিকেটিং করে।
এদিকে, নগরীর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার এলাকা থেকে হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করেছে গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীরা।
গোলাম আযমের মামলার রায় হওয়ার পর জামায়াতে ইসলামী ও গণজাগরণ মঞ্চ পৃথকভাবে মঙ্গলবার সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হাতাল ডাকে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে মেডিকেল কলেজ এলাকায় শিবিরের ঝটিকা মিছিলের সময় একটি পিকআপ ভ্যান ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ আটটি গাড়ি ভাংচুর করে তারা।
একই এলাকায় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ। কিছুক্ষণ পর তারা চলে যায়।
এদিকে, সকাল সাড়ে ১০টায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার থেকে হরতালের সমর্থনে মিছিল করে গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীরা।
মিছিলটি নগরীর প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে কোর্ট পয়েন্টে গিয়ে শেষ হয়।
সকাল থেকে নগরীতে কিছু সিএনজি অটোরিকশা ও রিকশা চলাচল করলেও ভারি যানবাহন চলছে না।সিলেট থেকে দূরপাল্লার কোনো বাস ছেড়ে যায়নি।
তবে সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদ জানান, স্টেশন থেকে ট্রেন যথাসময়ে ছেড়ে গেছে।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এসএম রোকন উদ্দিন জানান, হরতালে যেকোনো ধরনের নাশকতা ঠেকাতে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি র‌্যাব ও বিজিবির টহল রয়েছে।




৮)

সিরাজগঞ্জে যানবাহন ভাংচুর, আটক ৮


সিরাজগঞ্জে হরতালের সকালে যানবাহনে ভাংচুর চালিয়েছে জামায়াত-শিবিরকর্মীরা।

এছাড়া পুলিশের সঙ্গে পিকেটারদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়াও হয়েছে। পুলিশ আটজনকে আটক করেছে।
জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর গোলাম আযমের ৯০ বছর কারাদণ্ড হওয়ার পর মঙ্গলবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে দলটি।
এ রায় প্রত্যাখ্যান করে গণজাগরণ মঞ্চও সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডাকে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উল্লাপাড়ার পূর্বদেলুয়া এলাকায় পাবনা-নগরবাড়ি মহাসড়কে দুইটি ট্রাক, একটি ওষুধবাহী পিকআপসহ কয়েকটি যানবাহনে ভাংচুর চালানো হয়েছে।
উল্লাপাড়া থানার ওসি হাবিবুল ইসলাম জানান, গজারিয়া ব্রিজের কাছে এবং খোকশাবাড়ী এলাকায় পিকেটিং করার সময় জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়।
এ সময় খোকশাবড়ি ইউনিয়ন পরিষদের শিবিরের সভাপতি মিজানসহ অন্তত আটজনকে আটক করা হয়েছে।
কয়েকরাউন্ড টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।
বেলা ১১টার দিকে ওসি বলেন, মহাসড়কে টহল জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আটকদের থানায় রেখে যাচাইবাছাই করা হচ্ছে। 
শহর থেকে দূরপাল্লার ও অভ্যন্তরীণ রুটে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক আছে।
সদর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম খান জানান, শহরের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে র‌্যাব ও পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।


৯)

সাতক্ষীরায় জামায়াত-পুলিশ সংঘর্ষ, নিহত ২


হরতাল চলাকালে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছেন জামায়াত নেতারা।

মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৮টার  দিকে পুশুলিয়া ইউনিয়নের পাউখালী বাজারে এ ঘটনায় আহত হয়েছেন পুলিশের সাত সদস্যসহ আরো অন্তত ১১ জন।
কালীগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) তাজুল ইসলাম জানান, জামায়াত কর্মীরা সকালে পাউখালী বাজারে গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করে। খবর পেয়ে পুলিশ অবরোধ তুলতে গেলে জামায়াত-শিবিরের কয়েকশ কর্মী পুলিশের ওপর হামলা চালায় ও ককটেল নিক্ষেপ করে।
এ সময় আত্মরক্ষার জন্য পুলিশ গুলি ছোড়ে বলে কালীগঞ্জের পরিদর্শক (তদন্ত) আক্তারুজ্জামান জানান।
ঘণ্টাব্যাপী থেমে থেমে সংঘর্ষে এসআই সোহরাব হোসেন ও নকিব এবং কনস্টেবল ফরিদসহ সাত পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে পরিদর্শক জানান। তাদের কালিগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
কালীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল ওয়াহাব সিদ্দিকী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সংঘর্ষের সময় পুলিশের গুলিতে তাদের দুই কর্মী নিহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আরো ছয়জন।
নিহত রুহুল আমীন (৪০) স্থানীয় জামায়াত কর্মী এবং আরিফুজ্জামান (১৯) একজন শিবিরকর্মী বলে ওয়াহাব জানান। তিনি বলছেন, তাদের লাশ পাউখালীতে রাখা হয়েছে।
  তবে পুলিশ বলছে, দুই শিবিরকর্মী গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পেলেও তাদের মৃত্যু হয়েছে কি না সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত নন।  
পাউখালি এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ঘটনাস্থলে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এএসপি তাজুল ইসলাম জানান, কনস্টেবল ফরিদের অবস্থা আশঙ্কাজন। তাকে কালীগঞ্জ থেকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।



১০)

চট্টগ্রামে জামায়াতের বোমায় সাংবাদিক আহত


বোমাবাজি ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম মহানগরীতে জামায়াত-শিবিরের হরতাল চলছে।

জামায়াতে ইসলামী ও তাদের সহযোগী সংগঠন শিবিরের নেতাকর্মীরা মঙ্গলবার ভোর থেকেই নগরীতে বিচ্ছিন্নভাবে হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানোর পাশাপাশি যানবাহন ভাংচুর করে।
সকালে নগরীর বাদুরতলায় শিবিরের ছোড়া হাতবোমার আঘাতে টেলিভিশন চ্যানেল বাংলাভিশনের ক্যামেরাম্যান ইসমাইল হোসেন পলাশ আহত হয়েছেন।
এর আগে সকাল ৭টার দিকে শিবিরকর্মীরা নগরীর পতেঙ্গা থানার চরপাড়া এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি মিনিবাসে আগুন দেয় বলে ওসি শাহাবুদ্দিন জানিয়েছেন।
এছাড়া নগরীর নসিমন ভবন এলাকায় সকালে বেশ কয়েকটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায় জামায়াত-শিবিরকর্মীরা।
সকাল ৮টার দিকে বাদুরতলা এলাকায় পুলিশকে লক্ষ্য করে দুই-তিনটি হাতবোমা নিক্ষেপ করে শিবিরকর্মীরা। তখন হাতবোমার স্প্রিন্টারে আহত হন ক্যামেরাম্যান পলাশ।
চট্টগ্রাম নগর পুলিশের পাঁচলাইশ জোনের সহকারী কমিশনার আবদুর রউফ জানান, পরে শিবিরকর্মীরা পুলিশের ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যায়।
এছাড়া খুলশী থানার ওয়্যারল্যাস নামক এলাকায় সকালে হরতালকারীরা বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাংচুর করে বলে নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার আবদুল গফুর জানান।
হরতালের মধ্যে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অন্যান্য দিনের তুলনায় কম সংখ্যায় গাড়ি চলতে দেখা গেছে। অবশ্য বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মূল সড়কগুলোতে গণপরিবহন চলাচল শুরু হয়।
যুদ্ধাপরাধে গোলাম আযমের কারাদণ্ডের প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামীর ডাকা এ হরতালে সরকারি-বেসরকারি অফিস- আদালত এবং তৈরি পোশাক কারখানায় স্বাভাবিক কার্যক্রম চলছে।
চট্টগ্রাম বন্দরেও কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানা গেছে।



১১)

রাজশাহীতে শিবির-পুলিশ সংঘর্ষ



রাজশাহীতে মঙ্গলবার সকালে শিবিরের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।

গোলাম আযমের ফাঁসির দাবিতে গণজাগরণ মঞ্চের নেতাকর্মীরাও মিছিল করেছেন।
পুলিশ ছয় শিবিরকর্মীকে আটক করেছে।
বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, শিবিরকর্মীরা নাশকতার চেষ্টা করে এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে হাতবোমা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।
তাদের ছাত্রভঙ্গ করতে অর্ধশত রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ারসেল ছোড়ে পুলিশ। পরে ছয় শিবিরকর্মীকে আটক করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকালে হরতালের সমর্থনে রাজশাহী মহানগরীর শাহ মখদুম কলেজের সামনে ঝটিকা মিছিল বের করে শিবিরের নেতাকর্মীরা।
এ সময় তারা রাস্তার ওপর টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করে। এ সশয় পুলিশ গেলে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে তারা।
পরে পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ারসেল ছুঁড়লে শিবিরকর্মীরা পালিয়ে যায়।
এদিকে, জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ ও যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট।
মিছিলে অন্যান্যের মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মলয় ভৌমিকও ছিলেন।
গোলাম আযমের মামলার রায় হওয়ার পর জামায়াতে ইসলামী ও গণজাগরণ মঞ্চ পৃথকভাবে সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হারতাল ডাকে।


১২)

ফেনীতে ভাংচুর, শিবির নেতা আটক


ফেনীতে হরতালের শুরুতে যানবাহন ভাংচুর করেছে জামায়াত-শিবির কর্মীরা। নাশকতার আশংকায় রোববার রাতে আটক করা হয়েছে স্থানীয় শিবিরের ৫ নেতাকর্মীকে।   

ফেনী হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ওসি আবদুল কাদের জানান, সোমবার ভোর ৫টার দিকে ফেনী-কুমিল্লা সীমান্তের মোহাম্মদ আলিবাজার এলাকায় ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কে একটি ট্রাকে আগুন দেয়ার পাশাপাশি কয়েকটি এলাকায় প্রায় ২০টি গাড়ি ভাংচুর করে পিকেটাররা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, পরে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে ট্রাকের আগুন নিভিয়ে ফেলে।
মুক্তিযুদ্ধকালীন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর গোলাম আযমের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের রায়ের দিন সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যার এই হরতাল পালন করছে দলটি।
ওসি কাদের বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে আরো জানান, হরতালের আগে রোববার রাতে নাশকতার আশংকায় শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আটক করা হয়েছে শিবিরের পাঁচ নেতা-কর্মীকে।
এদের মধ্যে ফেনী কলেজ ছাত্র শিবিরের সভাপতি আতিকুর রহমান ও শহর ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ মোশারফ রয়েছেন।
ওসি বলেন, ট্রাকে আগুন দেয়া ছাড়াও ফাজিলপুর, কাজির দিঘি ও লেমুয়ায় বেশ কিছু গাড়িও ভাংচুর করেছে হরতাল সমর্থকরা।



১৩)

রংপুরে হরতালে সড়ক অবরোধ-ককটেল বিস্ফোরণ


রংপুর: রংপুরে হরতালে মহাসড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করেছে শিবির কর্মীরা।এ সময় তারা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ৬টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। 

হরতালের শুরুতে সকালে নগরীর লালবাগে সড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে শিবির নেতাকর্মীরা।এছাড়া রোকেয়া বিশ্ববিদালয়ের ভিসির বাংলোর সামনে টায়ারে আগুন দিয়ে বিক্ষোভ করে তারা।

অন্যদিকে, নগরীর রাজা রামমোহন ক্লাবের সামনে ৬টি ককটেল বিস্ফোরণ করে পিকেটাররা। 
রংপুর মহানগরী থেকে কোনো ভারী ও মাঝারি পরিবহন চলাচল করেনি।দোকানপাট বন্ধ থাকলেও নগরীতে রিকশা-অটোরিকশা চলাচল করেছে।হরতালে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

রংপুর গণজাগরণ মঞ্চের নেতাকর্মীরা সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মিছিল বের করে।এরপর তারা সিটি বাজারের সামনে সমাবেশ করে। 

রংপুর সহকারী পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবীর বাংলানিউজকে জানান, হরতালে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে।



১৪)

হরতালে লক্ষ্মীপুরে অবরোধ-ককটেল বিস্ফোরণ


লক্ষ্মীপুর: লক্ষ্মীপুরে হরতাল চলাকালে সড়কের দুই পাশের গাছ কেটে অবরোধ করেছে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা।এ সময় কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায় তারা। 

মঙ্গলবার সকালে নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুর সড়কের অন্তত ১৫টি স্থানে গাছ কেটে সড়কের ওপর ফেলে রাখে। এ সময় তারা হরতালের সমর্থনে সরকার বিরোধী স্লোগান দিয়ে খণ্ড খণ্ড লাঠি মিছিল করে।মিছিল থেকে লক্ষ্মীপুর জেলা সদর, রায়পুর ও কমলনগর উপজেলার বিভিন্নস্থানে মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত অন্তত ১৫টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

এদিকে, হরতালে লক্ষ্মীপুর ও রায়পুর টার্মিনাল থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও চাঁদপুরসহ দূরপাল্লার কোনো যানবাহন ছেড়ে যায়নি।জেলার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে রিকশা চলাচল ছিল স্বাভাবিক। ব্যাংক-বীমা, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান ও অফিস-আদালতে লোকজনের উপস্থিতি ছিল অন্য দিনের তুলনায় কিছুটা কম। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমের ৯০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার প্রতিবাদে দেশব্যাপী হরতাল আহ্বান করে জামায়াত শিবির।এ জন্য ভোর থেকে দলীয় নেতাকর্মীরা লাঠিসোটা নিয়ে লক্ষ্মীপুর সদরের বাস টার্মিনাল, বটতলি, রায়পুর উপজেলার বাস টার্মিনাল, বর্ডার, লেংড়া বাজার, রামগঞ্জ উপজেলার পানপাড়া ও কমলনগর উপজেলার হাজীরহাট এলাকায় অবস্থায় নেয়। 

এ সময় তারা দুইটি মোটরসাইকেল ও ৩টি অটোরিকশা ভাঙচুর, টায়ারে অগ্নিসংযোগ ও সড়কের দুই পাশের গাছ করাত দিয়ে কেটে সড়কে ফেলে রাখে। 

এ ব্যাপারে রায়পুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শামছুল হক বাংলানিউজকে জানান, রায়পুরে গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাটি কেউ পুলিশকে জানায়নি। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান করছে।গাছ কেটে সড়ক অবরোধ করার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। 



১৫)

যশোরে শিবিরের ককটেল বিস্ফোরণে আহত ৩


যশোরে শিবিরের ককটেল বিস্ফোরণে আহত ৩
যশোর: যশোরে হরতাল চলাকালে ককটেল বিস্ফোরণ ও বাস ভাঙচুর করেছে শিবির কর্মীরা। এ সময় ককটেল বিস্ফোরণে তিনজন আহত হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে জেলা পরিষদ ভবনের সামনে এ ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এর আগে যশোর-মাগুরা মহাসড়কের হাশিমপুর এলাকায় একটি বাস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর একটার দিকে কয়েকজন শিবির কর্মী ইজিবাইকে চড়ে যাওয়ার সময় জেলা পরিষদ ভবনের সামনে সড়কের পাশে একটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়।

এতে এক রিকশাচালক ও দুই পথচারী সামান্য আহত হন। এরা হলেন, রিকসা চালক শহরের শংকরপুর এলাকার লুৎফর রহমান (৫২), পথচারী একই এলাকার সাগর (১৩) ও অপর অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবক। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, সকাল ১০টার দিকে যশোর-মাগুরা মহাসড়কের হাশিমপুর বাজারে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসে হামলা চালিয়ে বাসটির সামনের ও জানালার গ্লাস ভাঙচুর করে শিবির কর্মীর‍া।

যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক শেখ বাংলানিউজকে জানিয়েছেন, আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য জেলা পরিষদের সামনে বোমাটির বিস্ফোরণ ঘটানো হতে পারে।